নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার তরুণ সংগঠক কাজী শরিফ মাহমুদের জন্মদিন। ২০০৪ সালে সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই তরুণ গত কয়েক বছরে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম ও নাগরিক সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। জন্মদিন ঘিরে সহপাঠী, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা, তার পথচলা আরও বিস্তৃত হোক, প্রভাব ছড়াক বৃহত্তর পরিসরে।
মণিরামপুর পৌরসভার তাহেরপুর গ্রাম। সেখানেই বেড়ে ওঠা। বাবা কাজী আক্তার হোসেন একজন বেসরকারি চাকরিজীবী, মা তহমিনা আক্তার গৃহিণী। পারিবারিক শাসন, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা ছোটবেলা থেকেই তাকে প্রভাবিত করেছে। ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, পরিবারের সীমিত সামর্থ্য তাকে থামায়নি, বরং দায়িত্বশীল করেছে।
শিক্ষাজীবনে ভিত্তি নির্মাণ
২০২১ সালে মণিরামপুর আদর্শ বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২৩ সালে মণিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে যশোরের ডা. আব্দুল রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজে সমাজকর্ম বিভাগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। সমাজকর্মের একাডেমিক শিক্ষা তার সংগঠন পরিচালনা, মাঠপর্যায়ের কাজ ও সামাজিক বিশ্লেষণকে কাঠামোবদ্ধ করেছে।
বিদ্যালয় জীবনে প্রথম স্থান অর্জন এবং বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ তাকে সহপাঠীদের মাঝে আলাদা করে তোলে। একই সময়ে একটি হামলার ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। সেই অভিজ্ঞতা তাকে ভেঙে দেয়নি। বরং ঝুঁকি নেওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মানসিক দৃঢ়তার ভিত গড়ে দেয়।
২০১৮ সালে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হন তিনি। তবে ২০২১ সালে দেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার সাংগঠনিক দক্ষতা নতুন মাত্রা পায়। অল্প সময়ের মধ্যেই উপজেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পান এবং টানা দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।
তার নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিকবিরোধী প্রচারণা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মাঠপর্যায়ে দল গঠন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয় এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন। শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি মানসিক চাপও ছিল। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি। পরবর্তী সময়ে মণিরামপুরে সামাজিক স্থিতি ফিরিয়ে আনা, তরুণদের সংগঠিত রাখা এবং গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সামাজিক সংগঠন যুবদূত। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে সংগঠনটিকে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করেন। রক্তদান কর্মসূচি, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, স্বাস্থ্যসচেতনতা প্রচার, নারী নির্যাতনবিরোধী আলোচনা ও পথশিশুদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয় যুবদূতের ব্যানারে।
শুধু কর্মসূচি নয়, সংগঠনের কাঠামো, দায়িত্ব বণ্টন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সাজানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। তার লক্ষ্য, যুবদূতকে কেবল একটি স্থানীয় সংগঠন নয়, একটি নীতিনির্ভর সামাজিক প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তিনি নির্মাণ করেন তথ্যচিত্র ‘ইশতেহার’। এতে পূর্ববর্তী নির্বাচনে প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবায়নের চিত্র বিশ্লেষণধর্মীভাবে তুলে ধরা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি আলোচনার জন্ম দেয়। তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইশতেহারভিত্তিক ভোট, প্রতিশ্রুতি যাচাই ও নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনার সূত্রপাত হয়।
সংগঠনের বাইরে তিনি ছবি আঁকেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন, পথশিশুদের পড়ান। সহপাঠীদের মতে, তার পরিকল্পনা করার ক্ষমতা এবং বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি বয়সের তুলনায় পরিণত।
তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, তিনি ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে কাজকে প্রাধান্য দেন। স্বপ্ন দেখেন এমন একটি সমাজের, যেখানে তরুণরা শুধু সমালোচনা নয়, সমাধান তৈরিতেও এগিয়ে আসবে। দীর্ঘমেয়াদে নারী ও শিশু অধিকার, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক শিক্ষায় বড় পরিসরে কাজ করতে চান।
জন্মদিনে তার বার্তা স্পষ্ট, নিজের এলাকা থেকে শুরু করে বৃহত্তর পরিসরে ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে চান তিনি।১৫ ফেব্রুয়ারির এই দিনে পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত কাজী শরিফ মাহমুদ। তার পথচলা এখনো শুরুর অধ্যায়েই। সামনে কতদূর যেতে পারবেন, সেটি সময় বলবে। তবে এখন পর্যন্ত তার যাত্রা প্রমাণ করে, সাধারণ পরিবার থেকেও ধারাবাহিক উদ্যোগ, সাহস ও সামাজিক দায়বদ্ধতা একজন তরুণকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।